চিকিৎসক সংকটে ধুঁকছে কুমারখালী হাসপাতাল

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেহ চিকিৎসাব্যবস্থা অনেকটা ভেঙে পড়েছে। ডাক্তার সংকটের মধ্য দিয়ে চলছে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের চিকিৎসা কার্যক্রম। উপজেলায় ১১ ইউনিয়নসহ পৌর এলাকায় প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের বসবাস। এই উপজেলা স্বাস্থ্য-কমপ্লেক্সের বহিঃবিভাগে প্রতিদিন রোগী আসে অন্তত আড়াইশ। এর মধ্যে প্রতিদিন অন্তত ৫০ জন রোগী ভর্তি হয় এখানে। গড়ে প্রতিদিন রোগী ভর্তি থাকে শতাধিক। কিন্তু আশানুরূপ সেবা না পেয়ে ২/১ দিন পরেই রোগীরা হাসপাতাল ত্যাগ করে। কারণ সমস্যার শেষ নেই এই হাসপাতালে। সেবা না পেয়েই তারা হাসপাতাল ছাড়তে বাধ্য হয়।

বর্তমানে ১৬ জন ডাক্তারের পদ থাকলেও বাস্তবে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ ডাক্তার রয়েছেন মাত্র চারজন। এই চারজন ডাক্তার দিয়ে এত রোগীকে সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। রোগীরাও আশানুরূপ সেবা না পাওয়ায় হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছে।

এর উপরে হসপিটালের বহির্বিভাগে কোনো ডাক্তার রোগী না দেখলেও দুপুরের পর থেকে ডাক্তাররা ফ্যামেলি কেয়ার প্রাইভেট হাসপাতালে প্রতিদিন রোগী দেখছেন। যার ফলে ডাক্তার দেখানোর জন্য বাধ্য হয়ে রোগীরা ভিড় জমাচ্ছে ফ্যামেলি কেয়ার হাসপাতালে।

গত ২৩ জানুয়ারি হসপিটালটিতে অভিযান চালায় দুদক। তারপরে এই হসপিটাল থেকে চলে গেছেন আরও তিন চিকিৎসক। এতে প্রায় ভেঙে পড়েছে হসপিটালটির স্বাস্থ্য সেবা ব্যবস্থা।

কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. মাসুদ রুমি জানান, এখানে বর্তমানে চিকিৎসকের সংকট। যে ডাক্তার রাতে ডিউটি করেন তাকেই আবার দিনে ডিউটি করতে হচ্ছে। রোগীর চাপ বেশি কিন্তু নেই পর্যাপ্ত ডাক্তার। এতে সেবা দিতে খুবই কষ্ট হচ্ছে।

কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার আকুল উদ্দিন বলেন, ডাক্তারের পদ থাকলেও কুমারখালীতে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো শূন্য। যে কারণে ইচ্ছা থাকলেও আমরা রোগীদের পর্যাপ্ত সেবা দিতে পারছি না। এমনকি সার্জন, এনেসথেসিয়া ডাক্তার ও গাইনি ডাক্তারের পদ থাকলেও শূন্য থাকায় আমরা অপারেশন করাতে পারছি না। তবে আমরা আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করছি। এ ব্যাপারে মাসিক মিটিংয়ের রিপোর্ট কয়েকবার অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডা. রওশন আরা বেগম জানান, দ্রুত হসপিটালে চিকিৎসক নিয়োগের চেষ্টা করা হচ্ছে। আশা করি অচিরেই সমস্যার সমাধান হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *