কুষ্টিয়া-২, শহীদুলের ঘোষণায় চ্যালেঞ্জের মুখে আহসান হাবিব লিংকন

দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে কুষ্টিয়া-২ (ভেড়ামারা-মিরপুর) আসনে তিন বার নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য ও কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক শহীদুল ইসলাম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার ঘোষণা দিয়েছেন। বুধবার তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেনের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

এদিকে তিন বার নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য শহীদুল ইসলাম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দেয়ায় কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে ঐক্যফ্রন্ট। এ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে এ আসনের সাবেক এমপি মরহুম আব্দুর রউফের ছেলে ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরী এবং ফরিদা ইয়াসমিনকে। জামায়াতের পক্ষ থেকে আব্দুল গফুর মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। অন্যদিকে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে জাতীয় পার্টি (জাফর) আহসান হাবীব লিংকনকে।

সূত্র মতে, শেষ পর্যন্ত সমঝোতার ভিত্তিতে এই আসনে ঐক্যফ্রন্টের চূড়ান্ত প্রার্থী হবেন আহসান হাবিব লিংকন। এ আসনে মহাজোটের প্রার্থী হচ্ছেন বর্তমান এমপি জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।

দলের নেতাকর্মীরা বলছেন, আহসান হাবিব লিংকন কেন্দ্রীয় নেতা হলেও এখানে জাতীয় পার্টির (জাফর) শক্ত কোনো অবস্থান নেই। ভোটার সংখ্যাও উল্লেখ করার মত নয়। বিএনপি এবং জামায়াতের ভোটই মূল ভরসা। কিন্তু তিন বারের সাবেক এমপি অধ্যাপক শহীদুল ইসলাম যদি শেষ পর্যন্ত স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন তাহলে বিএনপি-জামায়াতের ভোটের একটি অংশ চলে যাবে শহীদুল ইসলামের বাক্সে। এতে করে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী আহসান হাবিব লিংকনের ভোট কাটা যাবে। এ কারণে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী আহসান হাবিব লিংকনকে।

মিরপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রহমত আলী রব্বানী বলেন, ভেড়ামারা-মিরপুরে বিএনপি মানেই অধ্যাপক শহীদুল ইসলাম। এ আসন থেকে তিনি তিন বার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করে নির্বাচিত হয়েছেন। বিএনপিকে দক্ষ নেতৃত্ব দিয়ে ভেড়ামারা-মিরপুরের নেতাকর্মীদের বেঁধেছেন একই সূত্রে। বিএনপির মাঠ তার জন্যই অনুকূলে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও সাধারণ জনগণ তার প্রতি আস্থাশীল। তাকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে মনোনয়ন দেয়া মানেই নির্বাচনে নিশ্চিত ভরাডুবি। এ অবস্থায় তাকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার জন্য নেতাকর্মীরা বাধ্য করেছেন।

নির্বাচনে অংশগ্রহনের প্রশ্নে অধ্যাপক শহীদুল ইসলাম বলেন, ভেড়ামারা মিরপুরে আমিই বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা। জনগণ এবং বিএনপির নেতাকর্মীরা আমার সঙ্গেই আছে। তারপরও বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব আমাকে বাদ দিয়ে বাহিরের একজনকে মনোনয়ন দিয়েছে। যার সঙ্গে স্থানীয় বিএনপির কোনো সম্পর্ক নেই।

তিনি বলেন, নেতাকর্মীরা চান আমি নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করে বিএনপিকে এ আসনটি উপহার দেই। তাদের চাপে পড়েই আমি প্রার্থী হতে বাধ্য হয়েছি।

বিএনপি শাসনামলে নানা কারণে আলোচিত-সমালোচিত ছিলেন অধ্যাপক শহীদুল ইসলাম। ২০০৬ সালের ২৯ মে কুষ্টিয়া পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে সাংবাদিক নির্যাতনবিরোধী সমাবেশে হামলা চালিয়ে দেশে-বিদেশে ব্যাপক সমালোচিত হন অধ্যাপক শহীদুল ইসলাম। ওই হামলায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, ওমর ফারুক, আল-মামুন সাগরসহ অন্তত ৩০ জন সাংবাদিক আহত হন।

১৯৯৬ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত পরপর তিনবার বিএনপির প্রার্থী হিসেবে এমপি নির্বাচিত হন অধ্যাপক শহীদুল ইসলাম। ২০০৮ সালের নির্বাচনে মহাজোটের মনোনীত প্রার্থী জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু নৌকা প্রতীক নিয়ে অংশ নিয়ে প্রথম বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে এই আসন থেকে ইনু বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) সংসদীয় আসনটি মিরপুর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা ও ভেড়ামারা উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। এই আসনে মিরপুর উপজেলায় ভোটার সংখ্যা বেশি। এখানে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৯৯ হাজার ৫৮৬ জন। এদের মধ্যে মিরপুর উপজেলায় রয়েছে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৮২৬ জন ভোটার এবং ভোড়ামারা উপজেলায় রয়েছে ১ লাখ ৫১ হাজার ৭৬০ জন ভোটার।  সূত্র; জাগো নিউজ

(Visited 31 times, 1 visits today)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *