কুমারখালীর লম্পট শিক্ষক খাদেমুলের বিচার দাবী এলাকাসীর

কুষ্টিয়া কুমারখালী উপজেলার চাপরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক খাদেমুল হকের বিরুদ্ধে সপ্তম শ্রেণি কে ছাত্রী কে সাদা কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে বিয়ের দাবি অতঃপর অপহরণের চেষ্টা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সপ্তম শ্রেণীর ওই ছাত্রী জানান, ২০১৬ সাল থেকে সে খাদিমুল স্যারের কাছে কোচিং এ ক্লাস করতে যেত। এরপর খাদেমুল স্যার তাকে ম্যাজিস্ট্রেট বানাবে এমন প্রলোভন দিয়ে ২০১৮সালের ৭ জুন সবুজ কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। তারপর থেকেই যদি খাদেমুল স্যারের কথা না শুনতাম তাহলে সে আমাদের এই বিয়ের কথা জানিয়ে দেবে বলে ব্ল্যাকমেইল করতে থাকে। গত ২০শে ফেব্রুয়ারি খাদেমুল স্যার আমাকে কুমারখালী বাস স্ট্যান্ড থেকে জনি পরিবহনে মাগুরায় নিয়ে যায়। সেখানে আমি পরিস্থিতি খারাপ দেখে স্যার কে বলি যদি আমাকে বাসায় নিয়ে না যাওয়া হয় তবে আমি চিৎকার করব। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে স্যার আমাকে নিয়ে আবার কুষ্টিয়া তে আসে। কুষ্টিয়া তে আসার পর স্যার আমাকে বলে তুমি কুমারখালী চলে যাও। আমি স্যার কে বলি সকালে এসেছি এখন কিভাবে বাসায় গিয়ে উঠব। এই কথা শুনে স্যার আমাকে বলে তুমি আমার বাসায় যাও আমি দুই ঘন্টা পরে বাসায় আসছি। এর কিছুক্ষণ পরই আমার চাচারা জানতে পেরে ওই স্যারের বাসা থেকে আমাকে বাড়িতে নিয়ে আসে।

ছাত্রীর পিতা লম্পট ঐ শিক্ষক খাদেমুল কঠিন শাস্তির দাবি জানান।তিনি এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলেও আমাদেরকে জানান।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, শিক্ষক খাদেমুল একজন লম্পট। ইতিপূর্বে তিনি প্রাইভেট পড়াতে গিয়ে অনেক ছাত্রীর জীবন নষ্ট করেছেন। তার বর্তমান যেই স্ত্রী রয়েছে সেই স্ত্রীকে প্রাইভেট পড়াতে পড়াতে প্রেমের ফাঁদে ফেলে। একপর্যায়ে এলাকাবাসীর ধরে তাদের বিয়ে দিয়ে দেয়। তার এই লম্পটের কারণেই তাকে এলাকাছাড়া হতে হয়েছে। সে এখন কুষ্টিয়াতে বাসা ভাড়া থাকে। মেয়েরা সম্মানের ভয়ে পরবর্তীতে আর মুখ খোলেনি। লম্পট শিক্ষকের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী। লম্পট শিক্ষক খাদেমুলের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান এলাকাবাসী।

এদিকে ওই শিক্ষকের সাথে যোগাযোগ করার জন্য চাপড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গেলে সেখানকার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা জানান, খাদেমুল স্যার ব্যক্তিগত সমস্যা দেখিয়ে দুই দিনের ছুটি নিয়েছে। বিষয়টা আমিও শুনেছি। খাদিমুল স্যার মাঝেমধ্যেই ছুটি নেন। আমাদের স্কুলে বর্তমানে ১২০ জন ছাত্রছাত্রী রয়েছে। শিক্ষক মাত্র তিনজন। খাদেমুল স্যার যেদিন থাকেন না সেদিন ২জনে শিক্ষক এই স্কুল চালাতে হয়। স্কুলের বেশ কয়েকজন ছাত্র ছাত্রী জানান, খাদেমুল চার পাঁচ দিন স্কুলে আসেননি।

চাপরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকা জানান, তিনি প্রায়ই এসে স্কুলে এসে গল্প করেন, আমার কোচিং এর ছাত্রীরা আমার সাথে প্রেম করতে চায়।

এদিকে জেলা শিক্ষা অফিসার মুনসুর আলী চৌধুরী জানান, এসব বিষয়গুলো আমার জানা নেই লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে এসব অভিযোগের বিষয় নিয়ে খাদেমুল স্যারের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে, তিনি ফোন রিসিভ করে কোন কথা না বলে কেটে দেন।

কুষ্টিয়ার সময়-আ.আ.হ/মৃধা

বিজ্ঞাপন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *