খোকসার পদ্মাপারের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের চাওয়া মাত্র কয়েকটি বেঞ্চ

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ॥ পদ্মা নদীর কূল ঘেঁষে কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার গোপুগ্রাম ইউনিয়নের ৯নং বিহারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার টেবিল চেয়ার ছাড়াই শিক্ষা কার্যক্রম চলছে ক্লাস রুমের মেঝেতে বসে। ১৯২০ সালে এলাকার বিশিষ্ট শিক্ষা অনুরাগী ডাক্তার আব্দুল কুদ্দুস এর অনুপ্রেরণায় আরও তিনজনের অনুদানে ১০৮ শতাংশ জমির উপর সাদিপুর গ্রামের চর অধ্যুষিত এলাকার কোমলমতি শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রমের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয় বিহারিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে ১৯৭৩ সালের সরকারি করণের আওতায় যুক্ত হয় বিদ্যালয়টি।

পরে ২০১৫ সালে উক্ত বিদ্যালয়টি অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত উন্নত করা হয়েছে। বর্তমানে ৯ নং বিহারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৬শ জন শিক্ষার্থী শিক্ষা গ্রহণ করছেন। বিদ্যালয়ে দু’টি ভবনে ৬টি ক্লাস রুমে শিশু শ্রেনী সহ ৯টি ক্লাস নেওয়া হচ্ছে।

রবিবার সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে তৃতীয় শ্রেণীর প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী ক্লাস রুমের মেঝেতে বসে তাদের পাঠ গ্রহণ করছেন।

বিহারীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আরিফ হোসেন  জানান, শিক্ষার্থী বেশি হওয়ায় ক্লাসরুম সংকুলান না হওয়া ও শিক্ষার্থীদের বসিবার পর্যপ্ত বেঞ্চ না থাকায় ৩য় শ্রেনীর শিক্ষার্থীদের ক্লাস রুমের মেঝেতে বসে পাঠদান করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, এতে করে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন রোগ নিউমোনিয়া, ঠান্ডা জ্বর সহ ক্লাসে অনুপস্থিত দেখা দিয়েছে। এমনকি শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার অবস্থা দেখা দিয়েছে বেশ কয়েক বছর যাবত। ২০০৪-০৫ অর্থবছরের এলজিইডির বাস্তবায়নের দুই রুম বিশিষ্ট একটি ক্লাস রুম নির্মিত হলেও  এখন তা  ব্যবহারের একেবারে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

গোপগ্রাম ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের মেম্বার ও বিহারীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক জানান, বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর থেকে নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত। দীর্ঘদিন যাবত কোন ভবন ছিল না। যদিও ভবন নির্মাণ করা হয় তথাপিও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীর্ঘদিন না থাকায় প্রশাসনিক ও সাধারণ কার্যক্রম ব্যাহত হতে থাকে। গত চার মাস আগে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসলেও এখন বিদ্যালয়ের অবকাঠামো ও বিভিন্ন আসবাবপত্রের চরম অভাব দেখা দিয়েছে। বিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থী ঝরে পড়া কোন ভাবে রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমানে ৬শ শিক্ষার্থীর জন্য মাত্র ৯ জন শিক্ষক পাঠদান করছেন।  এত প্রতিকূলতার পরও এবার ও উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে সর্বোচ্চ ভালো রেজাল্ট করেছে ৯ নং বিহারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রবীন্দ্র নাথ সাহা বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান,  এ ব্যাপারে তিনি উপর মহল কে জানাবেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করবেন বলেও সাংবাদিকদের জানান।

বিষয়টি অতি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় বিদ্যালয়টিতে অনতিবিলম্বে পাঠদানের জন্য প্রয়োজনীয় টেবিল সরবরাহ করতে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে স্থানীয় এলাকাবাসী অভিভাবক ও বিদ্যালয়ের সভাপতি।

কুষ্টিয়ার সময়-আ.আ.হ/মৃধা

বিজ্ঞাপন

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *