খোকসায় মধ্যযুগীয় কায়দায় নিরপরাধ ব্যক্তিকে নির্যাতন, এসআই ক্লোজড, এ বিষয়ে কিছুই জানেন না ওসি

নিজস্ব প্রতিবেদক:  কুষ্টিয়ার খোকসা থানার এসআই শাহ আলী ও এএসআই গোলাম রসুলের বিরুদ্ধে নিরপরাধ ব্যক্তি শাহিনের উপর নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার  কমলাপুর গ্রামের শাহীন (৪৫) (পিতাঃ মৃতঃ আলী আকবর) কে এসআই শাহ আলী ও এএসআই গোলাম রসুল জোর পুর্বক থানায় ধরে এনে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনে শাহীনের পা রক্তাক্ত গুরুতর জখম হয়। তবে এই বিষয়ে খোকসা থানার ওসি এবিএম মেহেদী মাসুদ কিছুই জানেন না বলে জানান এই প্রতিবেদককে। এমন কোন ঘটনা খোকসা থানায় ঘটেছে কি’না তাও তার জানা নেই বলে তিনি জানান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,  নির্যাতনের খবর শুনে খোকসা থানা যুবলীগের আহব্বায়ক আল মাছুম মোর্শেদ শান্ত ত্রিশ চল্লিশটি মোটর সাইকেল সহ থানায় এসে ওসি এবিএম মেহেদী মাসুদ কে এই নারকীয় ঘটনা কেন ঘটিয়েছে জানতে চান। এসময় তাদের মধ্যে তুমুল বাকবিতন্ডা হয়। পরে ওসি এ বি এম মেহেদী মাসুদ এর নির্দেশে ভিকটিম শাহীনকে এএসআই দীপঙ্কর এর দ্বারা স্কার্ট পূর্বক খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ রাত সাড়ে নয়টার সময় চিকিৎসার জন্যে প্রেরণ করা হয়।

কর্তব্যরত চিকিৎসক জখমি শাহীনকে চিকিৎসা পূর্বক হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দেন।কর্তব্যরত চিকিৎসক ওসি মেহেদী মাসুদের অনুরোধে ভর্তি না করে  হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেন। ওসি পরে আল মাছুম মোর্শেদ শান্তর ও স্থানীয় উত্তেজিত জনসাধারণের চাপে ভিকটিম শাহিন কে থানা থেকে তার জিম্মায় মুক্তি দেয়।

স্থানীয় সাংবাদিক কর্তৃক জেলা পুলিশ সুপার এ বিষয়ে অবগতি হলে তাৎক্ষণিক ভাবে অভিযুক্ত এসআই শাহ আলীকে জেলা পুলিশ লাইনে ক্লোজ করার আদেশ দেন। এই অভিযুক্ত শাহ আলীর বিরুদ্ধে নানা কুকর্মের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। জুয়া ধরে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া, ওয়ারেন্ট এর আসামি ধরে টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া নিরপরাধ লোকদেরকে ধরে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে টাকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া সহ একাধিক অভিযোগ নিয়ে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ আছে। এস আই শাহ আলী  গত ০৩/১০১৮ ইং তারিখে শিক্ষানবিশ এসআই শেষে সদ্য এসআই হিসেবে খোকসা থানায় যোগদান করে। টাকার জন্য এহেন কোন অপকর্ম নেই যা সে করে নাই। পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার যা কিছু অপরাধ সব সে তার ওসি এবিএম মেহেদী মাসুদের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে করেছে বলে থানার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অন্যান্য অফিসার বৃন্দ জানান।

অভিযুক্ত এসআই শাহ আলী শাহিনের মারার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে, তিনি স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, আমি যাকিছু করেছি ওসি সাহেবের নির্দেশ মোতাবেক করেছি। আমি মাত্র হুকুমের গোলাম।

তবে ভুক্তিভুগি শাহিনকে নির্যাতনের কোন ঘটনা ওসি এবিএম মেহদী মাসুদ জানেন না বলে জানান।এসআই শাহ আলী কেন ক্লোহজড করা হল জানতে চাইলে তিনি এ বিষয় কোন মন্তব্য না করে ফোনের লাইন কেটে দেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *