কেমন আছে খোকসার সাবেক ছাত্রনেতারা : পর্ব ০১

আশিক হাসানঃ জাতীয় রাজনীতিতে কুষ্টিয়া অনেক গুরুত্বপূর্ন একটি জেলা। ভৌগোলিক অবস্থান, অর্থনীতি, ঐতিয্য, শিল্প-সাহিত্য বা মানুষের জিনগত বৈশিষ্ট্য কুষ্টিয়াকে জাতীয় রাজনীতির অপরিহার্য একটা অংশ করে গড়ে তুলেছে। ঐতিহাসিকভাবেও কুষ্টিয়ার একটা আলাদা অবস্থান রয়েছে। তাছাড়া জাতীয় রাজনীতিতে হানিফ, ইনু অনেক গুরুত্বপূর্ন দুইটি নাম। তবে আওয়ামীলীগ বলেন কিংবা বিএনপি, জেলা সভাপতি কিন্তু খোকসার। এটা দলমত নির্বিশেষে খোকসাবাসীর গর্ব করার মতো একটা বিষয়। আর এই কারনেই কুষ্টিয়ার রাজনীতিতে খোকসা মানেই গুরুত্বপূর্ন একটা বিষয়। আর মূল দলের পেছনে কার্যকর শক্তি হিসাবে সবসময়ই রাজপথে প্রয়োজন হয় ছাত্র সংগঠনকে। ছাত্রলীগ, ছাত্রদল ছাড়া আসলেই আওয়ামী লীগ, বিএনপি চিন্তা করাও দুষ্কর, যদিও প্রতিটি দলেরই স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য এবং গঠনতন্ত্র রয়েছে। এসব ছাত্র সংগঠনগুলো মূল দলের নিউক্লিয়াস হিসাবে কাজ করে। সংগঠনের নাম আসলেই চলে আসে নেতার নাম। তাঁদেরকে নিয়েই এই প্রতিবেদন। কেমন আছে ওইসব ছাত্রনেতারা যাদের ত্যাগ, তীতিক্ষা, সাংগাঠনিক দক্ষতায় গড়ে উঠেছিল খোকসার ছাত্ররাজনীতির ইতিহাস।

খোকসার ছাত্র রাজনীতির ইতিহাসে সবথেকে সফল ছাত্রনেতা বলতে যদি কাউকে বোঝায় সেটা হলো খোকসা উপজেলা শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি মোঃ সায়েম হোসেন (সুজন)। খোকসা উপজেলা আওয়ামী লীগের দুঃসময়ের কান্ডারী এবং বিরোধীদলের অগ্নি সন্ত্রাসের প্রতিবাদে প্রতিদিনই রাজপথে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন এই পরীক্ষিত ছাত্রনেতা। বিএনপির ঘাঁটি খোকসা পৌরসভা কে আওয়ামী লীগের শক্ত অবস্থান তৈরি করার পেছনে এই পরীক্ষিত ছাত্রনেতার রয়েছে বিপ্লবী ভূমিকা। খোকসাতে তাঁর সময়ে তাঁর জনপ্রিয়তা ছিল তুঙ্গে। এখনও সর্বমহলে তাঁর নেতৃত্বগুন প্রশংসিত হয়। তাঁকে খোকসার এযাবৎকালের সবচেয়ে সফল সভাপতি হিসাবেও গণ্য করা হয়। দীর্ঘসময় সফলভাবে খোকসার ছাত্রলীগকে পরিচালনা এবং সুসংগঠিত করতে যেয়ে তাঁর যেমন অনেক শুভাকাঙ্খী তৈরী হয়, তেমনি শত্রুরও অভাব ছিল না তাঁর। জড়িয়ে পড়েন পরিকল্পিত নারী কেলেঙ্কারীতে। তখন মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে তাঁর বিপক্ষশক্তিরা। সবাই তাঁর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। সেখানেও তিনি বিচক্ষনতা এবং মহানুভবতার পরিচয় দেন। বিয়ে করে সংসার করছে মেয়েটির সাথে। তবে চরম ক্রান্তিলগ্নেও নেতা বা দলের সাথে বেঈমানী করেননি। মুখ বুজে সব মাথা পেতে নিয়েছে। খোকসায় আবার যখন রাজনীতি গ্রুপিংয়ের অন্ধকারে আচ্ছন্ন, যোগ্য নেতার অভাব – তিনি ফিরে এসেছেন খোকসার রাজনীতিতে। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের হাতকে শক্তিশালী করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

কুষ্টিয়ার সময় থেকে আমরা তাঁর কাছে জানতে চাই তাঁর রাজনৈতিক জীবন, বর্তমান অবস্থা এবং ব্যাক্তগত মতাদর্শ সম্পর্কে। একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি অত্যন্ত সাবলীল এবং আন্তরিকভাবে আমাদের সাথে কথা বলেন, তুলে ধরেন তাঁর মনের না বলা অনেক কথা। আলোচনার চুম্বকাংশ উল্লেখ করা হলোঃ

কুষ্টিয়ার সময়ঃ কিভাবে রাজনীতিতে আসলেন? শুরুটা কেমন ছিল?

মোঃ সায়েম হোসেন সুজনঃ বেগম সুলতানা তরুন এর ভোটের আগে এখানে ইলেকশন করে পরবর্তীতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি হই। সেখানে ছাত্রলীগের কর্মী ছিলাম। তাছাড়া আওয়ামী রাজনৈতিক পরিবার আমাদের। মামা কালুখালী উপজেলা কালিয়াকোর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান। তাই রক্তেই বলা যায় আওয়ামীলীগ। প্রথমে ছাত্রলীগের আহবায়ক ছিলাম। আহ্বায়ক থাকা অবস্থায় খোকসার বিভিন্ন অঞ্চলে ছাত্রলীগ, ছাত্রলীগের ইতিহাস, ছাত্রলীগের গৌরব-ঐতিহ্য নেতাকর্মীদের মাঝে উপস্থাপন করেছি। উপজেলা আওয়ামী লীগের এমন কোনো প্রোগ্রাম, মিছিল-মিটিং ছিল না যে আমি উপস্থিত থাকিনি। তৎকালীন বিএনপি-জামাত আগুন সন্ত্রাসের সময়ে প্রত্যেকটি প্রত্যেকটি মিনিট রাজপথে ছিলাম। এককথায় উপজেলা আওয়ামী লীগের ১২১ – গ্রামীণফোনের one-to-one এর মত ছিলাম। বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন এবং পৌরসভার নির্বাচনে পৌরসভার ভোটার বৃদ্ধি বিশেষ করে আমার চুনিয়াপাড়া রাজিনাথপুর অঞ্চলে চোখে পড়ার মতো ছিল। কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে জননেতা সদর উদ্দিন খান এর পক্ষে কুষ্টিয়ার রাজপথে ছিলাম অগ্রণী ভূমিকা পরবর্তীতে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি হয়েছিলাম।

কুষ্টিয়ার সময়ঃ বর্তমান ছাত্র রাজনীতি নিয়ে আপনার অভিব্যক্তি কি? বর্তমানেও ছাত্রলীগ আছে, আপনার সময়ও ছিল। আগের থেকে অনেক দূর্বল সাংগাঠনিক অবস্থা এবং অনেক বেশি গ্রুপিংয়ে বিভক্ত মনে হয়? এদের মধ্যেও কি সম্ভাবনা দেখেন? এই অবস্থা থেকে উত্তরনের পথই বা কি বলে আপনি মনে করেন?

মোঃ সায়েম হোসেন সুজনঃ বর্তমান ছাত্র রাজনীতি নিয়ে ভাবনা – সেটা হচ্ছে গুটিকয়েক ছেলেপেলে ছাড়া এই বিগত টার্মে ছাত্র রাজনীতিতে অনেক কিছুই ছিল না। সত্যি কথা বলতে সংগঠন কখনো দুর্বল হয় না। আমাদের মনমানসিকতাই দুর্বল। এই জন্য আমরা বর্তমানে ছাত্রলীগকে দুর্বল ভাবছি। এখানে ছাত্রনেতাদের সমন্বয়ের অভাব।এক একজন ছাত্রনেতা এক একজন আওয়ামী লীগের নেতার অনুসারী। সে ক্ষেত্রে যে যে নেতারই অনুসারী হোক না কেন সবাই বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করে জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার জন্য প্রত্যেক সপ্তাহে একটা স্থানে বসে ছাত্ররাজনীতি টা কিভাবে করা যায় সেটা নিয়ে নিজেদের মাঝে আলোচনা করতে পারে। মেইন কথা, তাদের চিন্তা-চেতনার একটা অধ্যায় খোলা রাখা উচিত। এখানে সবাই সবাইকে পচাইতে ব্যস্ত। সংগঠন সুন্দরভাবে পরিচালনা করতে হলে হিউজ মন-মানসিকতা আর সেক্রিফাইজ করা দরকার।

কুষ্টিয়ার সময়ঃ ছাত্র রাজনীতির বর্তমান অবস্থায় দলীয় গ্রুপিং বা আওয়ামীলীগের সিনিয়র নেতাদের অবহেলা, পৃষ্টপোষকতার অভাব আছে বলে মনে করেন? বর্তমান ছাত্রলীগ কি সাবেকদের থেকে যথেষ্ট সাপোর্ট পাচ্ছে?

মোঃ সায়েম হোসেন সুজনঃ বর্তমান ছাত্রলীগের যে অবস্থা – সাবেক কারা মাঠে ছিলেন, কারা ঐক্যবদ্ধ ছিল, তাঁদের অনেককেই চিনে না বর্তমান ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। ছাত্রলীগের নেতা নির্বাচন কিংবা নেতৃত্ব স্থানীয় পোস্ট-পদবী সাবেক ছাত্রনেতাদের কেই করতে দিতে হবে এটা সকল নেতার উদ্দেশ্যেই বলা। এতে করে সাংগাঠনিক ছেলেগুলোই কিন্তু নেতৃত্বে আসতে পারবে। জননেতা ওবায়দুল কাদের সেক্রেটারি হবার আগে একবার কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সম্মেলনের আগে বর্ধিত সভায় বক্তব্যে বলেন – “ছাত্রলীগের নেতৃত্ব ছাত্রলীগকেই করতে হবে…”

কুষ্টিয়ার সময়ঃ এখন মেধা, যোগ্যতা, সাংগাঠনিক ক্ষমতা থেকে আওয়ামীলীগ নেতার সিলেকশন, স্বজনপ্রীতি, টাকার প্রভাব পোস্ট পদবীর ক্ষেত্রে বেশি কাজে লাগে। এটা সম্পর্কে আপনার কি অভিমত?

মোঃ সায়েম হোসেন সুজনঃ যারা খোকসার রাজনীতিতে সাংগঠনিক ব্যক্তিত্ব, কুষ্টিয়ায় আভিজাত্য আছে তারা সাংগঠনিক লোক চিনবে। যারা সাংগঠনিক লোক না, তাঁরা যখন ক্ষমতা পেয়ে যায় তখন নেতৃত্ব বাছাই করতে গেলে গ্রুপিংয়ের সমস্যা সৃষ্টি হয়।

কুষ্টিয়ার সময়ঃ ভবিষ্যত পরিকল্পনা কি রাজনীতি নিয়ে?

মোঃ সায়েম হোসেন সুজনঃ সামনে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে থেকে আওয়ামী লীগের অবস্থান শক্ত করার ইচ্ছা শক্তি আছে।

কুষ্টিয়ার সময়ঃ অসংখ্য ধন্যবাদ কুষ্টিয়ার সময়ের পক্ষ থেকে। অনেক শুভ কামনা রইল আপনার জন্য।

(Visited 346 times, 1 visits today)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *