ক্যান্সার আক্রান্ত তাসলিমার চিকিৎসার দায়িত্ব নিল খোকসা ইয়ুথ ফাউন্ডেশন

খোকসা প্রতিনিধিঃ কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার অন্তর্গত পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের মাঠপাড়ায় স্বামী পরিত্যক্তা তাসলিমা (২৫) গলার থাইরয়েড টিউমার জনিত ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে বিনা চিকিৎসায় মরতে বসেছেন। মোঃ আক্কাস আলী এবং মোছাঃ আসমা খাতুনের মেয়ে প্রথমদিকে গলায় টিউমার রোগে আক্রান্ত হয়ে ডাক্তারের শরণাপন্ন হন। ডাক্তারের পরামর্শে গলায় টিউমার অপারেশন করেন কুষ্টিয়াতেই। এরপর কয়েকদফা ঢাকাতে পরীক্ষা করান। সর্বশেষ ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে অপারেশনের পর উক্ত টিউমারটি বায়োপসি পরীক্ষা করে ক্যান্সার এর জীবাণু পাওয়া যায়। রোগীর পরিবার সর্বশান্ত হয়ে গেছে মেয়ের চিকিৎসা করাতে গিয়ে। টাকা ফুরিয়ে গেলে তাঁর চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যায়। আর্থিক করুন অবস্থার কারনে যা আয় হয় তাই দিয়ে চলে তাদের জীবন সংসার। চিকিৎসা করার মতন কোন অর্থ আয় না থাকায় বিনা চিকিৎসায় মরতে বসেছে ক্যান্সারে আক্রান্ত তালিমা। রোগীর পরিবার সাহায্যের আবেদন নিয়ে আসে তারুন্যের প্লাটফর্ম খোকসা ইয়ুথ ফাউন্ডেশন এর কাছে।

এমতাবস্থায়, খবর পেয়েই তৎক্ষনাত রোগীর বাড়িতে পরিদর্শনে যায় খোকসা ইয়ুথ ফাউন্ডেশনের একটি বিশেষ টিম। তাঁরা রোগীর চিকিৎসার সকল কাগজপত্র পর্যালোচনা করে এবং রোগীর পরিবারের সকল খোঁজ খবর নেন। তাঁরা এলাকার মানুষের সাথেও কথা বলেন এবং রোগীর পরিবারের আর্থিক দৈন্যতার বিষয়ে নিশ্চিত হয়।

এ সম্পর্কে খোকসা ইয়ুথ ফাউন্ডেশনের অন্যতম সদস্য এবং সংগঠক তরিকুল ইসলাম তারেক বলেন, “মেয়েটি আমার এলাকার। তাঁর করুন অবস্থা দেখে বিষয়টি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা এবং সভাপতি আশিক ভাইরে জানাই এবং তাঁর সাথে রোগীর বাসায় দেখতে যাই। এরপর সংগঠন থেকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে রোগীর চিকিৎসার সকল দায়িত্ব খোকসা ইয়ুথ ফাউন্ডেশন নিবে। কারন এটা আমাদের নৈতিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। আমরাতো সবাই ছাত্র অবস্থায় আছি কিন্তু যদি সবাই মিলে চেষ্টা করি, স্কুল-কলেজে টাকা তুলি, পাশাপাশি এলাকার সামর্থ্যবান লোকগুলো যদি এগিয়ে আসে তাহলে হয়তো আমরা রোগীর চিকিৎসার খরচ চালিয়ে জীবন বাঁচাতে পারব বলে মনে হয়। বাকিটা আল্লাহ ভরসা।”

এসম্পর্কে ফাউন্ডেশনের আরেক সক্রিয় সংগঠক শাহিনুর রহমান শাহিন বলেন, ” মাঠপর্যায়ে খোকসাতে ফান্ড কালেকশন শুরু করুক। এরপর ঢাকা থেকে আমরাও চেষ্টা করব টাকা তুলে দেয়ার। মোটকথা মানবতার সেবায় আমাদের চেষ্টার কোন কমতি থাকবে না, সবসময় পাশে আছি এবং থাকব ইনশাআল্লাহ।”

সংগঠনের আরেক তরুন সংগঠক আসিফ সরফরাজ শুভ বলেন, “বাঁচা মরার মালিক আল্লাহ। আমরাতো শুধুই উছিলা। আমাদের ইচ্ছাশক্তি আছে, কিন্তু সেই তুলনায় সামর্থ্য নেই। আমরা সমাজসেবা অধিদপ্তরের আর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ফান্ডের জন্যও আবেদন করব। তাছাড়া এখন সরকারীভাবেও অল্পখরচে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা আছে। আমরা তাই আশাবাদী। এখন সবার সহযোগীতা পেলেই একটা জীবন বাঁচাতে পারব আমরা।”

সংগঠনের সবাই রোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে দোয়া ও আর্থিক সহযোগীতা প্রার্থনা করেছে সবার কাছে।

(Visited 156 times, 1 visits today)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *