ঘুষ না দেওয়ায় অধ্যাপককে লাঞ্ছিতের অভিযোগ

কুষ্টিয়া প্রতিনিধিঃ চাহিদা অনুসারে ঘুষ চেয়ে না পাওয়ায় এক বিচার প্রার্থীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে কুষ্টিয়া প্রথম যুগ্ম জেলা জজ আদালতের সেরেস্তাদার মতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে। বিচার প্রার্থী ভেড়ামারা আদর্শ ডিগ্রী কলেজের সহকারী অধ্যাপক রেজাউল করিমের অভিযোগ গত ৭ নভেম্বর যুগ্ম জেলা জজ আদালতে দেওয়ানি আপিল মামলার সর্বশেষ অবস্থা জানতে সেরেস্তাদার মতিয়ার রহমানের কাছে সহযোগিতা কামনা করেন। এ সময় সেরেস্তাদার ওই তথ্য জানাতে ওই কলেজ অধ্যাপকের কাছে মোটা অঙ্কের ঘুষ দাবি করে বসেন। অধ্যাপক অভিযোগ করে বলেন, ঘুষ কেন দিতে হবে জানতে চাইলে সেরেস্তাদার মতিয়ার রহমান আমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন। খারাপ ব্যবহারের কারণ জানতে চাইলে সেরেস্তাদার আমার গায়ে হাত তোলেন এবং ধাক্কা দিতে দিতে আদালত ভবন থেকে বের করে দেন। মারধরের প্রতিবাদ করে জেলা জজ আদালতের বিচারককে তাদের আচরণের বিষয়টি জানাতে গেলে দ্বিতীয় দফায় অফিস পিয়ন আমাকে কিল ঘুষি মারতে মারতে আদালত ভবন থেকে বের করে দেন। এ সময় কোনো উপায়ন্তর না পেয়ে আমি দুদকের হেল্প লাইন ১০৬ এ কল দিয়ে অভিযোগ জানালে হেল্প লাইন থেকে তাকে জেলা জজ আদালতের বিচারক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়েরের পরামর্শ দেয়। আমি সাথে সাথেই আমার আইনজীবীর সহায়তা নিয়ে ১ম যুগ্ম জেলা জজ আদালতের সেরেস্তাদার মতিয়ার রহমানের ঘুষ চাওয়া ও মারধর এবং পিয়নের মারধরের বিষয়টি জেলা জজ আদালতের বিচারক বরাবর লিখিতভাবে অভিযোগ করেছি। বিচার প্রার্থী কলেজ অধ্যাপক জানান, মিরপুর থানার তেঘরিয়ার কামরুল ইসলামের জমিজমা সংক্রান্ত একটি মিথ্যা মামলায় (দে. ২৪১/১১) মিরপুর সহকারী জজ আদালত তার পক্ষে রায় ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে মামলার বাদী কামরুল ইসলাম আপিল করলে যুগ্ম জেলা জজ ১ম আদালত ওই কলেজ অধ্যাপকের পক্ষে রায় দিয়ে মামলাটি খারিজ করে দেন। বাদী নোটিশ গোপন করায় তিনি আদালতে আপিল মামলার (দে. আপিল ২২১৮) সর্বশেষ জানতে গেলে সেরেস্তাদার মতিয়ার রহমান আমাকে বলেন আপনি তো মামলায় জিতেছেন আমাদের টাকা দিতে হবে। কলেজ অধ্যাপকের দাবি- তিনি এ সময় বলেন মামলাটি এমনিতেই মিথ্যা তারপরে আপনারা টাকা দাবি করছেন এইটা তো ঠিক না। এ সময় সেরেস্তাদার মতিয়ার রহমান আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করে, মারধর করে সেরেস্তা থেকে বের করে দেন। আমি বিষয়টি বিচারকের কাছে জানাতে গেলে সেখানে থাকা একজন অফিস পিয়ন আমার গায়ে হাত তোলেন এ সময় ধাক্কা দিতে দিতে সেখান থেকে বের করে দেন। পরে তিনি দুদকের হেল্প লাইনের সহযোগিতা নিয়ে জেলা জজ বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানান। কলেজ অধ্যাপকের অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে যুগ্ম জেলা প্রথম আদালতের সেরেস্তাদার মতিয়ার রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। ওই কলেজ অধ্যাপকের অভিযোগ সঠিক নয় বলেও তিনি জানান। এই ঘটনার সাথে যুক্ত অফিস পিয়নের নাম জানাতে পারেননি ভুক্তভোগী ওই কলেজ অধ্যাপক। বিচার প্রার্থী কলেজ অধ্যাপকের আইনজীবী অ্যাড. মুন্সী তৌহিদুল ইসলাম জানান, কলেজ অধ্যাপক রেজাউল ইসলাম আমার মক্কেল। তিনি আদালতে একটি মামলার সর্বশেষ অবস্থা জানতে গিয়ে সেরেস্তাদার ও পিয়ন দ্বারা লাঞ্চিত হয়েছেন বলে আমি তার কাছে থেকে জানতে পেরেছি। বিষয়টি নিয়ে বিজ্ঞ জেলা জজ বরাবর একটি অভিযোগ দায়েরের পরামর্শ দিয়েছি এবং তিনি অভিযোগ দিয়েছেন।

(Visited 51 times, 1 visits today)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *