খোকসা আওয়ামী লীগের সম্মেলন : ঝড়ের পরে বৃষ্টি

খোকসা প্রতিনিধিঃ বহুল আলোচিত কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন শুরুর আগেই সভাস্থলের চেয়ার দখলকে কেন্দ্র করে দ্বিধা-বিভক্ত নেতা কর্মীরা সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছে বলে জানা যায়।

সোমবার (২৫ নভেম্বর) দুপুর ২টায় খোকসা-জানিপুর সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে সাত বছর পর উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।  কিন্তু সকাল সাড়ে নয়টার আগেই জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খানের অংশ ও কুষ্টিয়া ৪ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম আলতাফ জর্জের সমর্থক ও নেতা কর্মীরা সভাস্থলের চেয়ার দখলের চেষ্টা করে। এ সময় হলুদ গেঞ্জি পরা এমপি সমর্থিত বাবুল আখতারের কর্মী-সমর্থকদের সাথে  সাদা গেঞ্জিপরা সাধারণ সম্পাদক ও মেয়র তারিকুল ইসলামের সমর্থকদের সাথে সংঘর্ষ বাঁধে। বৈঠা ও দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু করে দুই পক্ষ। 

সম্মেলনস্থলে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন হওয়া না হওয়া নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত বক্তব্য দেন জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন কমিটির সদস্য আরিফুল আলম তসর ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বাবুল আখতার। সম্মেলন কমিটির সদস্য জানান, হামলার পর আহত কর্মী সমর্থকদের নিয়ে তারা ব্যস্ত রয়েছে। সম্মেলন হওয়া না হওয়ার বিষয়ে পরে জানাবেন। অপর দিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বাবুল আখতার জানান, কেন্দ্রীয় নেতারা জেলায় অবস্থান করছেন। নির্ধারিত সময়ে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। 

কেন্দ্রীয় নেতারা সভায় যোগ দেবেন বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।

মুহূর্তের মধ্যে এ খবর ছড়িয়ে পড়লে খোকসা ইউনিয়নের ক্লাবমোড়, তেল পাম্প, বাসস্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন পয়েন্টে দুই দলের কর্মী সমর্থকেরা লাঠি সোঁটা নিয়ে অবস্থান নেয়। কয়েকদফা সংঘর্ষে আহত হয় সংঘর্ষে আহত হয় জয়নাল মোল্লা (৫৫), শ্রমিক লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম ওরফে সাইদুল (৪৩), আকাশ (১৮), আছিব (১৬), উজ্জল (৪৮), সাগর (২৬), নয়ন (৩০), লিটন (৩০), জিহাদ (১৭), দুলাল (২৮), মতিন শেখ (৩৫), হজরত (৩২) সহ আরও অনেকে। এসময় খোকসা থানা আওয়ামীলীগের কার্যালয়ও ভাংচুর করা হয়। বাদ যায়নি আওয়ামীলীগের কুষ্টিয়া জেলা সভাপতি সদর উদ্দিন খানেরও ব্যক্তিগত অফিসও। এসময় দুই পক্ষের কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাংচুর করা হয়।

খোকসা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এবিএম মেহেদী মাসুদ বলেন, গুরুত্বপূর্ণ আট পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া সম্মেলনস্থলে চারিদিকে সাদা পোশাকের পুলিশ রাখা হয়েছে।

দুপুরে কেন্দ্রীয় ও জেলার নেতারা সম্মেলনে আসার পর কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারের চৌকশ ভূমিকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসে। কেন্দ্রীয় নেতারা সমন্বয়, সমঝোতা, ভ্রাতৃত্বের আহবান করেন। তাঁদের আহবানে সাড়া দিয়ে খোকসার শীর্ষ নেতৃবৃন্দরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য একমত হন।

এরপর কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব সদর উদ্দিন খান কমিটি ঘোষনা করেন। সভাপতি বাবুল আখতার, সহ-সভাপতি আব্দুর রহিম খান, সহ-সভাপতি আরিফুল আলম তসর, সাধারণ সম্পাদক তারিকুল ইসলাম তারিক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওহিদুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আল-মাসুম মোর্শেদ শান্ত।

কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নূরানী ফেরদৌস দিশা জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সভাস্থল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

সন্ধ্যার পরেও বিভিন্ন ইউনিয়নে বিচ্ছিন্ন গোলযোগের খবর পাওয়া যায়। রাত পর্যন্ত খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আট-দশজন রোগী ভর্তি ছিল আহত অবস্থায়। কয়েকজনকে গুরুতর অবস্থায় কুষ্টিয়া স্থানান্তর করা হয়।

(Visited 304 times, 1 visits today)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *